OPT, CPT এবং আমার অভিজ্ঞতা

———————————–

OPT, CPT এবং আমার অভিজ্ঞতা

নাফিসা আফরিন চৌধুরী (রিনি)

KUET CSE 2002 batch

———————————-

২০১২ এর আগস্ট মাস। অনেক টানা পোড়েনের পর অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে পিএইচডি আর করছি না। সিদ্ধান্তটা মোটেও সহজ ছিল না আমার জন্য। পিএইচডি অনেকেই ছেড়ে দেয় এবং OPT নিয়ে চাকরি শুরু করে, কিন্তু আমি তো OPT পাব না! খুলে বলি।

OPT মানে Optional practical Training, যেটা F1 শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন সরকারের দেয়া একটা সুযোগ যেন তারা পড়াশোনা শেষ করার পর বিছানা বালিশ বগলদাবা করে সোজা দেশের বাড়ি না গিয়ে এখানে বসেই একটু professional কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। এই OPT থাকলে আমেরিকান যেকোনো কোম্পানি চাকরি দিতে দিধা করে না। ভালো কাজ করতে থাকলে কিছুদিন পর কোম্পানিটা H1B (US work visa ) এবং এক সময় গ্রীন কার্ডেরও আবেদন করে। তাই OPT হলো এসব কিছু শুরু হবার চাবিকাঠি। OPT আবেদন করার সময় হলো আমার graduation এর তিন মাস আগে থেকে তিন মাস পর পর্যন্ত। বেশ কিছু কাগজপত্র সমেত আবেদন করতে হয় সরাসরি USCIS এ আর অন্তত এক মাস লাগে OPT approval মানে EAD (Employment Authorization Document) কার্ড হাতে আসতে। (লেখার একেবারে শেষে পাবেন OPT এর বিস্তারিত জানার লিংক)

কিন্তু আমি তো মাস্টার্স শেষ করেছি আরো দুই বছর আগে, তাই আমার OPT আবেদন করার সুযোগ নেই. তাহলে? এত দূর পড়াশোনা শেষে এখন কি H1B হোল্ডারের spouse হিসেবে H4 ভিসা নিয়ে বাসায় বসে থাকতে হবে? গেলাম আমাদের International Student Affairs সেন্টারে ওখানকার স্টুডেন্ট adviser এর সাথে দেখা করতে। খুবই হেল্পফুল তিনি। সব শুনে পরামর্শ দিলেন তুমি তো CPT করতে পার। CPT মানে Curricular Practical Training যেটা হলো পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা যাতে কিছু প্রফেশনাল কাজের অভিজ্ঞতা নিতে পারে তার ব্যবস্থা। সামার বা অন্য কোনো টার্মে ইউনিভার্সিটি এর বাইরে কোথাও ইন্টার্নশিপ করতে চাইলে এই CPT approval থাকতে হয়। OPT এর চেয়ে CPT পাওয়া অনেক সহজ। শুধু রিসার্চ adviser আর ডিপার্টমেন্ট রাজি থাকলেই  university’s International Student Affairs সেন্টার CPT approve করে দেয়। (লেখার একেবারে শেষে পাবেন CPT এর বিস্তারিত জানার লিংক)

শুরু করলাম ইন্টার্নশীপ খোঁজা।  উদ্দেশ্য মহৎ নয়। উদ্দেশ্য হলো ইন্টার্নশীপ একটা পেয়ে সেটাকে ফুল টাইম এ পাল্টে ফেলা। পাঁচ মাস ধরে বেশি না মাত্র গন্ডা কয়েক ইন্টারভিউ দেয়ার পর একটা পেলাম ইন্টেলে, ছয় মাসের ইন্টার্নশীপ শুরু হবে ২০১৩ এর মার্চ থেকে। মনে আশা কোনো ভাবে কি এখানে ফুল টাইম হওয়া যায়? যাতে এপ্রিল মাসে ওরা আমার H1B apply করে……। হলো না। একমাসের মধ্যে ওদের কাছে  কথাটা পাড়তে পারলাম না। ওদের গ্রুপে জব ওপেনিংও ছিল না। তিন মাস পর ওদের ওপেনিং হলো। ততদিনে কাজের মাধ্যমে মোটামুটি ভালো impression করতে পেরেছি। গ্রুপের সিনিয়র আর ম্যানেজার বেশ কিছু ইনফরমাল ইন্টারভিউ নিল, তারপর বলল “ইউ আর ইন”।(আল্লাহ কে অসংখ্য ধন্যবাদ)। এবার কোম্পানির HR বলল এবছর তো H1B এর কোটা শেষ, ফুল টাইম হিসেবে জয়েন করার আগে তোমার EAD কার্ড নিয়ে এস। কিন্তু আমারতো OPT নেই, EAD কোথায় পাব? আবার গেলাম স্টুডেন্ট adviser এর কাছে। সব শুনে বললেন, “there is a way to do full time CPT”. CPT নিয়েও যে ফুল টাইম চাকরি করা যায় আমার জানা ছিল না। উনি বললেন হ্যা করা যায় কিন্তু শর্ত আছে। শর্ত হলো আমাকে কোর্স ক্রেডিট নিয়ে যেতে হবে এবং পাশাপাশি চাকরি করতে হবে। অনেক বলে আমার রিসার্চ adviser কে রাজি করালাম যে আমি নুন্যতম তিন ক্রেডিট করে রিসার্চ নেব ওনার সাথে। একজন ইন্টারন্যাশনাল গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট হিসেবে আমাকে সাধারনত নিতে হয় প্রতি টার্মে নয় ক্রেডিট করে, কিন্তু অ্যাডভান্সড স্টুডেন্ট হিসেবে আমি তিন ক্রেডিট এর Reduced Course Load নিতে পারি।  উদ্দেশ্য এবার সুবিধাবাদি।  আগামী বছর H1B পাওয়া পর্যন্ত এটা চালিয়ে যাওয়া।

OPT এর স্টার্ট ডেট লেখা থেকে EAD কার্ডে, যার মেয়াদ দুই বছর। CPT এর স্টার্ট ডেট লেখা থাকে আই-২০ তে। CPT এর কোনো নির্ধারিত মেয়াদ উল্লেখ নেই (আমেরিকান আইনেরও কিছু ধুসর জায়গা থাকে)। তবে এক বছরের বেশি CPT করলে আমি নির্দ্বিধায় OPT করার যোগ্যতা হারাবো। অর্থাৎ আমি যদি এখন পিএইচডি তে ফিরেও যাই, শেষ করার পর আমি OPT আবেদন করতে পারব না। বেশ, সে সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি অনেক আগে :P ..

২০১৪ এর এপ্রিল এর ২০ তারিখ। ইমেইল করেছে ইন্টেল HR, “Congratulations! You have been selected in the H1B lottery”.

বিশেষ সতর্কতা: এই লেখা কোনো ভাবেই পিএইচডি ছেড়ে দেয়াকে উত্সাহিত করার জন্য নয়। আমি ছেড়েছিলাম নিজের কিছু ব্যাক্তিগত কারণে, যা এখানে উল্লেখ নেই।

OPT এপ্লিকেশন রুলস

CPT  এপ্লিকেশন রুলস

Comments are closed.