যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় সাধারণের সফলগাথা !

——————————————–

MohoTarima TabasSum

Graduate Teaching Assistant

New Mexico State University

———————————————

শুরুতেই জানিয়ে রাখি আমি মোটেও গুছিয়ে লিখতে বা বলতে পারিনা তাই এই লিখাটা আসলে কতটুকু উপকারে আসবে জানিনা, তবুও লিখছি যদি একজনও উপকৃত হয়! তাছাড়া আমার ঝুলিতে কোন উপদেশ বাণী ও নেই যে সবার সামনে তুলে ধরব, তবে আমি আমার experience টা সবার সাথে খুব সংক্ষেপে share করতে পারি। আশা করি এতে খুব অল্প কিছু হলেও কেউ উপকৃত হবে।

আমার সব সময়ই ইচ্ছা ছিল উচ্চশিক্ষার্থে বাইরে যাওয়ার। কিন্তু কখনই ইউনিভার্সিটি তে আহামরি কোন ভাল স্টুডেন্ট ছিলাম না। ফলাফল খুবই সাধারণ মানের। CGPA ও একেবারেই সাদামাটা। কিন্তু determination ছিল খুবই high!আমার কাছে যেটা সব চেয়ে important সেটা হলো এই determination। বাইরে আসার পুরো process টা খুবি hectic. এই সময় তাই ধৈর্য ধরে লেগে থাকাই হল successful হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি। যাই হোক, নিজের গল্পে ফিরি, কুয়েট থেকে বের হয়েই প্রথমে জিআরই শুরু করলাম। আমি এমনিতে খুব slow motion টাইপ মানুষ, আমার পক্ষে 4 month preparation enough ছিলনা GRE এর জন্য। 4 month বললেও আসলে ভুল হয়, আমার effective GRE preparation ছিল খুবি অল্প সময়ের যেটা এখানে আর উল্লেখ করে লজ্জা পেতে চাই না! পরিক্ষার দশ দিন আগে আমার মনে হল আমার জিআরই দেয়া উচিত হবেনা। কিন্তু জিআরই সেন্টারের এক ভাইয়া অসম্ভব সাহায্য করলেন, সাহস দিলেন। উনার কথাতেই শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিলাম এবং যথারীতি ফলাফল আবারও যা হবার তাই! মোটেও আশানুরূপ ভাল হইনি। আবারও ভাইয়া সাহস দিলেন, 2013 Fall ধরতে পারব এই বিশ্বাস রাখতে বললেন। আগেই বলেছি আমার result যাই হোক, determination ছিল অসম্ভব দৃঢ়। আমি জানতাম যেকোনো ভাবেই হোক Fall 2013 আমাকে ধরতেই হবে।অ্যাপ্লাই করতে শুরু করলাম, প্রোফেসর ম্যানেজ করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু হল না। ৩টা ইউনিভার্সিটি থেকে admission letter এলো। ৩টা থেকে rejected হলাম। এরপর আবারও প্রোফেসর ম্যানেজ করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু এবার ভিন্ন উপায়ে। USA এর office time এ প্রোফেসর দেরকে ফোন দেয়া শুরু করলাম। সেই সাথে Department Head কেও! এই উপায়ে RA ম্যানেজ করতে না পারলেও 20hour/week TA ম্যানেজ করে ফেললাম!এই পুরো সময় টাই আমার জন্য ছিল খুবি frustrating এবং একই সাথে challenging। তবে আল্লাহ’র অশেষ রহমতেই যে এত কিছু করা সম্ভব হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এবার বলি খুবি সাম্প্রতিক সময়ের কথা। আজকে এক চাইনিজ প্রোফেসর এর সাথে কথা বলছিলাম future course/RA plan নিয়ে। উনি অনেক কথা বললেন, নিজের জীবনের কিছু ঘটনা বলে আমাকে inspire করার চেষ্টা করলেন। বললেন, Cornell University তে PhD Qualifying exam দিতে গিয়ে উনি দুইবার ফেইল করেছিলেন এবং Cornell থেকে kicked out হয়েছিলেন! কারন সেই সময় উনার spoken English ছিল খুবি বাজে। এরপর উনি ৩ বছর একটা software company তে জব করে নিজেকে আরও skilled করলেন। এরপর আবারও Cornell এ উনার প্রফেসর এর সহায়তায় Michigan University তে গিয়ে admission নিলেন এবং সেখান থেকেই সফলতার সাথে graduation complete করলেন। এ কথা গুলো আমাকে বলার উদ্দেশ্য হোল যেন কখনও হাল ছেড়ে না দেই। জীবনে অনেক কঠিন সময় আসতে পারে কিন্তু ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে পারলেই আসলে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

এবার মেয়েদের জন্য একটা সুখবর আছে। প্রোফেসরই আসলে আমাকে এই ব্যাপারে জানালেন। Conversation এর একেবারে শেষে এসে উনি বললেন, The good thing is that you are a girl! USA তে আসলে engineering এ মেয়েদের অংশ গ্রহণ খুবি কম, So এখানকার সবাই চায় মেয়েরা এখানে ভাল করুক, আরও বেশি করে অংশ গ্রহণ করুক। মেয়েদের কে এখানে অনেক বেশি inspire করা হয়। কিন্তু তারমানে এই না যে যোগ্যতা ছাড়াই মেয়েদের কে নিয়ে নিবে! চেষ্টা থাকতে হবে, কাজের আগ্রহ দেখাতে হবে। তবেই ভাল কিছু আশা করা সম্ভব। এত কিছু বলার পর প্রফেসর আমাকে এটাও বলতে ভুললেন না যে ‘BUT DON’T RELY ON IT’. আমি তাকে উত্তর দিলাম I DO NOT!

লিখাটার আর কোন অংশ মনে রাখুন আর না রাখুন প্লীজ একটা কথা মনে রাখবেন ‘হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না’!

ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী সকলের জন্য শুভকামনা।

Comments are closed.