Archive for January, 2014

জার্মানি: স্বপ্ন যখন কড়া নাড়ে !

Friday, January 10th, 2014

*****************************

Niloy Rahman

M. Sc. in Energy Science & Technology

University of Ulm, Germany

*****************************

প্রকৌশলীদের জন্য তীর্থ স্থান বলা হয় জার্মানীকে! এই উপলব্ধি আরও ব্যাপকভাবে মাথা চাড়া দেয় যখন জব করতাম কাতারে, জার্মান প্রযুক্তি ছিল কাতার প্লান্টের যত্রতত্র ৷ খুব ছোটকাল থেকেই বাবার মুখে শুনতাম এদের প্রকৌশল আর প্রযুক্তিযজ্ঞ নিয়ে নানা কাহিনী , বিস্ময়ে শুনতাম বাবার সেই সব কথা ৷ কাতারে একসাথে জার্মান প্রকৌশলীদের হাতে হাত রেখে কাজ করার অন্যরকম সব অনুভূতিই আজ টেনে এনেছে আমাকে জার্মানীতে ৷

উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আমার আগ্রহ ডানা মেলে যখন আমার প্রিয় বন্ধু লিমন ,লিটন ,রিয়াদ, মুনিম,দ্বীপ তাদের স্ব স্ব উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে ৷বন্ধুরা আমাকে প্রায় উৎসাহিত করতে থাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ! বেশ ভালো সিজিপিএ ধারি বেশ কিছু বন্ধু  যেমন তুলি,দেলওয়ার ইতিমধ্যে জার্মানী চলে গেছে ,আরও বেশি উৎসাহিত হতে থাকি ৷ দেশে চলে আসলাম ছুটি নিয়ে,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করলাম ,সেসময় ডীন স্যার ছিলেন প্রফেসর ডঃ আশরাফুল গনি ভূঁইয়া ৷ স্যারের কাছ থাইকা Recommendation letter এর জন্য এক সপ্তাহ ঘুরাঘুরি করার পর অবশেষে  সফল হইলাম ; ঐদিন স্যার আমাকে অনেক পরিতোষপূর্ণ কথা বলেছিলেন , আর অনেক উৎসাহিতও করেছিলেন উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ৷

ইদানীং দেখছি অনেক বাঙ্গালি আসছেন জার্মানিতে , আমার এই উল্ম শহরে সেই পরিক্রমায় এসেছেন বেশ কিছু  প্রিয় বাঙ্গালি মুখ ৷ এছাড়া  অনেক বিদেশি ছাত্ররা পড়াশুনা শেষ করার পর জার্মানিতে চাকরি নিয়েও আসছেন এবং তারা যে এখানে চাকরি পাচ্ছে, তার মূল কারণ হল, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সেই সব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার  সংযোগ ৷ কোলোনের জার্মান অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডাবলিউ-র একটি সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে যে, যে সব বিদেশি-বহিরাগত জার্মানিতে পড়াশোনা করেছেন, তাদের ভালো বেতনের চাকরি পাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি ৷  “শিক্ষিত বিদেশি’-রা সাধারনত জার্মানিতে আসার আগেই জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে আসছেন এবং সাথে সাথে কিছু কাজের অভিজ্ঞতা অথবা ইনটার্ন করে আসছে্ন ৷ ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিতশাস্ত্র ও বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয় – জার্মানির মাঝারি মাপের শিল্পসংস্থাগুলি এই সব বিষয়ে দক্ষ কর্মীদেরই খোঁজ করে থাকে ৷ জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা যে ভাবে বেড়ে চলেছে, তার তুলনায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে স্নাতকের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় ৷ এ ক্ষেত্রে যে সব বিদেশিরা এ দেশে পড়াশোনা সমাপ্ত করছেন, তারা একটা সমাধান হতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ৷

পরিপাটি জীবন  যাপন , টিউশনি ফী না থাকা, আর উন্নততর শিক্ষাকার্যক্রমের জন্য জার্মানির কলেজ- ইউনিভার্সিটিগুলি বিদেশি ছাত্রদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় ৷  জার্মানিতে যারা পড়াশুনা করেছেন, এমন বিদেশিদের ৮০ শতাংশের জার্মানিতে থাকতে ও বাস করতে কোনো আপত্তি নেই – বরং সেটাই তাদের কাম্য ৷ তাদের এক-তৃতীয়াংশ তিন বছর কিংবা তার বেশি সময়ের জন্য জার্মানিতে থেকে যাওয়ার কথা ভাবেন ৷ যার ফলশ্রুতি বাস্তবেও পরিলক্ষণ করা যাচ্ছে যে সব ‘শিক্ষিত বিদেশিরা’ জার্মান কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাদের অর্ধেকেই এখানে থেকে যান ৷ এই সব বিদেশিদের স্থানীয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার ফলে রাজ্যকে যে ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার উচ্চবাচ্য করে না ৷

এখন ধরেন আপনি আগ্রহী উচ্চশিক্ষার জন্য, আর উচ্চ শিক্ষার জন্য জার্মানিতে যেতে চান ,এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ । তবে এ উদ্যোগটিকে কার্যকর ও ফলপ্রুসূ করতে বাস্তবসম্মত ও নিখুঁত পরিকল্পনা কোনো বিকল্প নেই। জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দিনদিন বেড়েই চলেছে । যদি এই বিষয়টির কিছু পূর্বশর্ত এবং প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে আপনার স্বচ্ছ ধারণা থাকে ,তবে এ ধরনের সম্ভাবনা আপনার জন্য নিঃসন্দেহে সফলতা বয়ে আনবে। মনে রাখবেন, এটা একটি উদ্যোগ। যে কোন উদ্যোগের মতই এখানে জড়িত আছে আপনার বা আপনার পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ, আপনার মেধা ও মনন, দক্ষতা ও নিষ্ঠা এবং এ সম্পদগুলো আপনি ব্যবহার করেছেন এমন একটি ক্ষেত্রে যেখানে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু প্রতিবন্ধকতাও বিদ্যমান। উদ্যোগটি সফল করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন কিছু পরিকল্পনা প্রণয়ন, নিজের সম্পর্কে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন, সর্বোপরি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ। জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাইলে প্রথমেই ভেবে দেখুন, কেন জার্মানিতে পড়তে যেতে চান? আপনি এ কোর্সটি জার্মানিতে সম্পন্ন করতে আগ্রহী তাহলে দেশে না করে জার্মানিতে করার ক্ষেত্রে কি কি সুবিধা ও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে, এর ইতিবাচক-নেতিবাচক দিকগুলোই বা কী কী?
কেন জার্মানিতে পড়তে যাবেন?
১) আত্মসমৃদ্ধিঃ যারা জার্মানিতে লেখাপড়া করেন তারা বিচিত্র অভিজ্ঞতার কারণে বুদ্ধিমাত্রা ও মননশীলতার দিক থেকে অধিকতর সমৃদ্ধ হয়ে ওঠেন।

২) বিশ্ব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিঃ জার্মানিতে অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো সম্পর্কে আপনার জ্ঞান-ভান্ডার অধিকতর সমৃদ্ধ হবে। জার্মানিতে বসবাস করতে গিয়ে জার্মান ভাষা শিখতে হবে। ফলে নতুন ভাষা শিক্ষা এবং এর গুরত্ব আপনি উপলব্ধি করবেন।

৩) পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিঃ জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র শিক্ষা এবং ব্যক্তিত্বকেই সমৃদ্ধ করবেনা, আপনার পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বিশেষত ব্যবসা, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং চাকরির ক্ষেত্রে আপনার পেশাগত দক্ষতা খুবই মূল্যবান ভূমিকা

সব শেষে বলতে চাই ; আরও যে বিষয়টি  লক্ষ্য রাখা উচিত ,তা হল সঠিক কোর্স নির্ধারণঃ পেশাগত উন্নতি ও লক্ষে পৌছানোর জন্য কি ধরণের পেশা আপনার জন্য উপযুক্ত তা খুঁজে বের করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি পেশাগত সফলতা বা আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে সেই পেশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণও কম তাৎপর্যপূর্ন নয়। তাই বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের যুগে উচ্চশিক্ষার অনেক কোর্সের মধ্যে আপনাকে এমন একটি কোর্স বেছে নিতে হবে , যা আপনার ভবিষ্যৎ পেশাগত দক্ষতার পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে গণ্য হবে । তবে জার্মানিতে পাশাপাশি আমাদের দেশেও যথেষ্ট চাহিদা আছে এরকম কোন কোর্সই জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্বাচন করা শ্রেয়।

শুভকামনা রইল সবার জন্য

নিলয়

স্বপ্নের দেশ আমেরিকাঃ-বাস্তবতা ও সফলতা

Wednesday, January 1st, 2014

——————————————————————————

Naureen Binte Shahjahan

Graduate Research/Teaching Assistant

Department of Mechanical Engineering

South Dakota State University, Brookings, SD, USA

——————————————————————————–

আমরা কুয়েটিয়ানরা হয়তো বুয়েট কিংবা অন্য ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট দের মত বিএসসির ফাইনাল ইয়ার থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে খুব বেশি ফোকাস করতাম না। বেশিরভাগই পাস করার পর চাকরীতে ঢুকে যাই। (বাবা মার টাকায় আর কতদিন!!!)কিন্তু ইদানিং কুয়েটিয়ান ছোট ভাই বোনদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও চেষ্টা দেখে অনেক ভাল লাগে আর এইজন্যই হয়তো আমার নিজের পার্সোনাল অভিজ্ঞতা টা শেয়ার করে তাদেরকে আরেকটু প্রেরনা দেয়ার জন্য এই লেখাটা লিখলাম। (যদিও লেখালেখি আমার একদম ভাল লাগে না!!!)

স্টুডেন্ট হিসেবে কখনই আহামরি ভাল স্টুডেন্ট ছিলাম না কিন্তু খুব খারাপও ছিলাম না। বাবা মার স্বপ্ন ছিল ভাইয়ার মত আমিও বুয়েট এ পড়বো কিন্তু সেটা হল না। কুয়েটে ভর্তি হয়ে ফার্স্ট ইয়ার থেকেই চোখে রঙিন চশমা লাগল। সারাদিন ফ্রেন্ড দের সাথে আড্ডা, ধুমায়ে কার্ড খেলা, ঘোরাঘুরি এইসব করে প্রথম দুই বছর কাটালাম। ফার্স্ট ইয়ার থেকে স্যাররা অনেক সিরিয়াস থাকতে বলতেন কিন্তু কে শুনে কার কথা !!! সেইরকম রেজাল্ট ও হল (চার সেমিস্টার এ দুইটা সেকেন্ড ক্লাস আর দুইটাতে টেনেটুনে ফার্স্ট ক্লাস)।থার্ড ইয়ার এ উঠে মনে হল এবার একটু পড়াশুনা করা দরকার।এরপর মোটামুটি ভাল রেজাল্ট নিয়ে পাশ করলাম।

পাশ করার পর প্লান ছিল IELTS  আর GRE দিয়ে দেশের বাইরে পড়াশুনা করতে যাব কিন্তু কিসের কি!!! যখন দেখলাম ফ্রেন্ডরা সবাই চাকরি করে ইনকাম করতেসে তখন সব বাদ দিয়ে চাকরীতে ঢুকে গেলাম। প্রথম প্রথম খুব মজা লাগতো নিজের ইচ্ছামত খরচ করতেসি, লাইফ এনজয় করতেসি কিন্তু কিছু সময় পর বুঝতে পারলাম সবই বোকামি!! এই লাইফ এর কোন ভবিষ্যৎ নাই, কেমন যেন ফ্রাসটেশন কাজ করত। তারপর জব ছেরে দিয়ে GRE পড়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার মত অস্থির আর ফাঁকিবাজ মেয়ের পক্ষে GRE পড়া সম্ভব হয় নাই। এরপর আবার জব এ ঢুকলাম, কিন্তু চাকরি করতেও একদম ভাল লাগত না। হঠাৎ একদিন বন্ধু শাওন বলল ওদের ইউনিভার্সিটি তে মেকানিক্যাল এ নাকি GRE না থাকলেও আপ্লাই করা যায়। ইউএসএ তে যে GRE ছারাও অ্যাডমিশন হয় সেটা আমার ধারনাই ছিল না। লাইফ এ প্রথম কিছু একটা করার ইচ্ছা হল আর এইজন্যই রিস্কটা নিলাম। বেশ অনেক টাকা খরচ করে WES করালাম তারপর আপ্লাই করলাম। যদিও ওরা বলে যে ওদের ইউনিভার্সিটি তে GRE দরকার হয়না কিন্তু ইউএসএ এর প্রত্যেকটা ইউনিভার্সিটি তে যত স্টুডেন্ট আপ্লাই করে মোটামুটি সবারই GRE স্কোর থাকে। আর আমার প্রোফাইল ছিল এভারেজ, তাই আমার অ্যাডমিশন না হওয়ার চাঞ্ছ বেশি ছিল। যাইহোক, অ্যাডমিশন পেলাম কিন্তু আমি কোন প্রফেসর এর সাথে আগে যোগাযোগ করি নাই। গ্র্যাজুয়েট কো-অরডিনেটর কে ই-মেইল করলাম। আমার আগে আরেকটা ফ্রেন্ড এর অ্যাডমিশন হইসিল আর ওর প্রোফাইল খুব ভাল ছিল আমার চেয়ে। ওকে গ্র্যাজুয়েট কো-অরডিনেটর জানালো যে মেকানিক্যাল এ আপাতত কোন পজিশন খালি নাই। আমি ভাবলাম তাহলে তো আর ওনাকে ই-মেল দিয়ে লাভ হবেনা। তারপরও ই-মেইল দিলাম, উনি রিপ্লাই দিয়ে বলল, “ Let me see what I can do for you” এটা পজিটিভ না নেগেটিভ রিপ্লাই কিছুই বুঝলাম না!!! তখন শাওন বলল ফিজিক্স ডিপার্টমেনটের গ্র্যাজুয়েট কো-অরডিনেটর কে ই-মেইল করে দেখতে। ওখানে TA পাওয়া যেতে পারে। আমি ই-মেইল করার পর উনি বলল ফিজিক্স ডিপার্টমেনটে আমার সব কাগজপত্র আর অ্যাপ্লিকেশন পাঠাতে। তখন আমি প্রায় হাল ছেরে দিচ্ছিলাম কারন আবার নতুন করে কাগজপত্র পাঠানোর মত কোন ইচ্ছা, সময়, টাকা কোনটাই আমার ছিল না। পরেরদিন আমি ই-মেইল পেলাম যে আমার সব কাগজপত্র মেকানিক্যাল ডিপার্টমেনট থেকে ফরোয়ার্ড করে recommend করা হয়েছে এইজন্য ওরা আমাকে TA দিল !! আমি সত্যি অনেক খুশি হইসিলাম (কারন ফিজিক্স ডিপার্টমেনট মেকানিক্যাল এর চেয়ে বেশি টাকা দেয়।) অ্যাডমিশন হল, ফান্ডও পেলাম, বাকি ছিল ভিসা। অনেকেই আমাকে বলসিল  আমার GRE স্কোর না থাকার কারনে ভিসা নাও পেতে পারি। কিন্তু আমার ভিসা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গেসিল। তারপর চলে আসলাম স্বপ্নের দেশ আমেরিকা তে !!!

এখানে আসার পর এখন পর্যন্ত আমাকে খুব একটা হার্ড টাইম পার করতে হয়নাই। প্রথম সেমিস্টার এর পর প্রফেসর এর সাথে কথা বলে RA ও ম্যানেজ করে ফেললাম। তারপর সামার এ টিকেট কেটে দেশে ঘুরে আসলাম। এরপর আবার নতুন করে সবকিছু শুরু। কোর্সওয়ার্ক সব শেষ করে ফেললাম ৪.০০ আউট অফ ৪.০০ সিজিপিএ নিয়ে, এখন শুধু থিসিস শেষ করতে হবে। লো র‍্যাঙ্কড ইউনিভার্সিটি তে পড়তে আসছি দেখে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কেউ কেউ সরাসরি আবার কেউ গোপনে হাসাহাসি করে। সেটা নিয়ে যে খুব একটা দুঃখ লাগে তা না কিন্তু আরেকটু ধৈর্য ধরে GRE পরীক্ষা দিয়ে ফেলে ভাল কোন ইউনিভার্সিটি তে পড়লে হয়ত এই অবজ্ঞা তা পেতে হত না !!! আমি যেরকম effort দিসি সেরকমই রেজাল্ট পাইসি এইজন্য আমার কোন দুঃখ নাই। র‍্যাঙ্ক যাইহোক না কেন ইউএসএ ঢুকাটাই মূল উদ্দেশ্য, তারপর একটা না একটা ব্যাবস্থা হয়ে যাবেই।

সবশেষে আমি এটাই বলব যে, ইউএসএ তে উচ্চশিক্ষার জন্য আসতে চাইলে সবার আগে মাইন্ড সেটআপ করে অনেক ধৈর্য নিয়ে চেষ্টা করতে হবে।বিশেষ করে ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড এ ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডে মেয়েদের কে অনেক প্রায়োরিটি দেয়া হয় তাই কুয়েট এর মেয়েদের জন্য সাজেশন থাকবে তারা যেন এই সুযোগ টাকে কাজে লাগায়। আমাদের সমাজ এবং পরিবার মেয়েদের একা একা বিদেশে পড়াশোনা টা খুব বেশি সাপোর্ট করে না। কিন্তু এখন অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে, তাই নিজের স্বপ্ন আর লক্ষ্য পূরণের জন্য কোন বাঁধার কাছে হার মানার দরকার নাই। কুয়েটের অনেক বড় ভাইয়া এবং আপুরা ইউএসের অনেক ইউনিভার্সিটি তে আছেন যারা সবাই অনেক হেল্পফুল।

আমি কখনই বলবনা যে আমার মত ফাঁকিবাজ এর কাছ থেকে প্রেরনা নিয়ে GRE পড়া বাদ দিয়ে ইউএসএ তে চলে আসতে!!! আমার ক্ষেত্রে হয়তো ভাগ্য সহায় ছিল, সবার ক্ষেত্রে সেটা নাও হতে পারে। দুনিয়াতে কোন কিছুই এমনি এমনি হয়না, কষ্ট করে অর্জন করতে হয়। এখনি সময় সেই সাফল্য অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার। এই লম্বা পথ পার করার জন্য সবার প্রতি শুভকামনা রইল।

নওরীন বিনতে শাহজাহান